রাজা বাগচী বহরমপুর

বহরমপুরে রক্তদান শিবিরে এসে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজ্যসভার সাংসদ, তৃণমূলের শ্রমিকনেত্রী দোলা সেন। করোনা মোকাবিলা ও ভ্যাকসিন নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে বিঁধলেন তিনি। হিটলারের সঙ্গে তুলনা টেনে সোমবার দোলা সেন বলেন, “হিটলারি প্রধানমন্ত্রীর জন্য এত মানুষকে হারাতে হল। মুখ্যমন্ত্রী ফ্রিতে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু কেন্দ্র সরকার তা পাঠাচ্ছে কই?’’
সোমবার আইএনটিটিইউসির উদ্যোগে আয়োজিত ওই রক্তদান শিবিরে এসে দোলা বলেন, ‘‘ভ্যাকসিন হোক কিংবা করোনা মোকাবিলা, কেন্দ্র সরকারের ভূমিকা সব ক্ষেত্রে অত্যন্ত নিন্দনীয়। করোনার প্রথম ঢেউ আসার সময় কেন্দ্র সরকার গোটা দেশের কাছে করোনার কথা চেপে গিয়েছিল। সেই সময় মধ্যপ্রদেশের ক্ষমতা দখল চলেছে। সংসদ ভবন খোলা রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যখন করোনা মোকাবিলায় শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার বার্তা দিচ্ছেন তখন প্রধানমন্ত্রী থালা বাজানোর নিদান দিয়েছেন। দ্বিতীয় ঢেউ আসার সময় রাম মন্দির উদ্বোধন করলেন। কুম্ভ মেলা করলেন। এতে আরও বেশি করে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়েছে।”
একই সঙ্গে বিধানসভা ভোটে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি সাংসদ। তাঁর সংযোজন, “করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসার পরে ভোট হয়েছে। ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনও জওয়ানের করোনা টেস্ট করানো হয়নি, ভ্যাকসিনও দেওয়া হয়নি। এ ভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউকে মোদী সাহেবরা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছেন।”
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে দোলা সেন বলেন, “আমাদের একটাই লক্ষ্য শ্রমিক ও শিল্প বাঁচানো। আমরা কখনও আইন নিজের হাতে তুলে নেব না। কথায় কথায় ধর্মঘট, অবরোধে আমরা বিশ্বাস করি না। আমাদের লক্ষ্য মানুষের জন্য কাজ করা।”
তবে রাজ্যসভার সাংসদের এই মন্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, “তৃণমূল সরকারের নেতানেত্রীরা নিজেদের দোষ ঢাকার জন্য বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপান। ভারতে করোনায় মৃত্যুর হার অন্য দেশের চেয়ে অনেক কম। তৃণমূলের নেতানেত্রীরা কিছু না জেনেই বক্তব্য রাখেন। এটাই তাঁদের চিরাচরিত স্বভাব।”