কল্লোল প্রামাণিক

শেষ পর্যন্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিল সরকার। করোনার কারণে এই পরীক্ষা নিয়ে কয়েক মাস থেকে উদ্বিগ্ন ছিলেন পড়ুয়া, অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ। সোমবার সরকারি সিদ্ধান্তের পরে মূল্যায়ন কী ভাবে হবে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
গত সপ্তাহে পরীক্ষার দিন ঘোষণা করার কথা জানানো হলেও বুধবার তা বাতিল হয়। সরকারের পক্ষ থেকে পরীক্ষার বিষয় খতিয়ে দেখার জন্য মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ, মনোবিদ, চিকিৎসক ও শিশু সুরক্ষা কমিটির সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা হওয়া উচিত কিনা তা নিয়ে সোমবার দুপুর ২টোর মধ্যে সাধারণ মানুষ, পড়ুয়া, অভিভাবকদের মতামত চেয়ে রবিবার শিক্ষা দফতর বিজ্ঞপ্তি দেয়। সেখানে মতামত জানানোর জন্য তিনটি ই-মেল আইডিও দেওয়া হয়। সেই মতামতের ভিত্তিতে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন তিনি বলেন, “ই-মেইলে মতামত পাঠানো ৮৩ শতাংশ মানুষ পরীক্ষা না নেওয়ার পক্ষে। পরীক্ষা না হওয়ায় কী ভাবে মূল্যায়ন হবে তা সাত দিনের মধ্যে জানানো হবে। পড়ুয়াদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।”
পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় অনেক পড়ুয়া, শিক্ষক ও অভিভাবক খুশি হয়েছেন। আবার অনেকেই মূল্যায়ন কী ভাবে হবে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নদিয়ার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, “যাবতীয় কোভিডবিধি মেনে পরীক্ষাটা নেওয়াই যেত। রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে গড়ে একশো জন পরীক্ষার্থী আছে। স্কুলগুলোর যে পরিকাঠামো তাতে প্রতি ঘরে দশ জন করে পরীক্ষার্থী বসিয়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা যেত। প্রয়োজনে প্রাথমিক শিক্ষক কিংবা কলেজের শিক্ষকদেরও পরীক্ষার কাজে লাগানো যেত। যাইহোক, এখন কী ভাবে পড়ুয়াদের মেধার মূল্যায়ন করা হবে সেটাই দেখার।”
মুরুটিয়ার বালিয়াডাঙা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসিতকুমার পাল বলেন, ‘‘অতিমারির বাস্তব পরিস্থিতি মাথায় রেখে এবং ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে এ বছর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত সমর্থনযোগ্য। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের মূল্যায়ন খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেটা কী ভাবে করা হবে তা চিন্তার ব্যাপার।’’ তাঁর সংযোজন, “নবম শ্রেণির নম্বর দিয়ে মাধ্যমিকের মূল্যায়ন বাস্তবসম্মত হবে না। কারণ, নবম শ্রেণিতে রেজাল্ট খারাপ করেও মাধ্যমিকে অনেক ছাত্রছাত্রী ভাল ফল করে।”

মূল্যায়নের ব্যাপারে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার!