শুভদীপ ভট্টাচার্য বহরমপুর

করোনায় রক্ষা নেই, দোসর রক্তের অভাব। আর সেই কারণে রক্তের চাহিদা মেটাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন ওঁরা। ওঁরা মানে শহিদ ক্ষুদিরাম পাঠাগার, সঞ্জীবনী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, ‘আমরা ছাত্র রক্তের সন্ধানে’, মানব বন্ধনে রক্ত, ইন্ডিয়ান মেডিক‌্যাল অ‌্যাসোসিয়েশন, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞানমঞ্চ, কোভিড ওয়ারিয়র্স ক্লাব-সহ আরও অনেক সংস্থার সদস্যেরা। কেউ কেউ আবার বাড়িতে কোনও অনুষ্ঠান উপলক্ষে রক্তদান শিবিরের আয়োজনও করছেন।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরেই জেলা জুড়ে শুরু হয় রক্তের আকাল। করোনা-বিধির কারণে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করার ক্ষেত্রেও সমস‌্যার সম্মুখীন হন উদ‌্যোক্তারা। পাশাপাশি অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়ায় ও রক্তদাতাদের একাংশ ভ‌্যাকসিন নেওয়ায় রক্তদানও সম্ভব হয়নি। আবার নির্বাচনী বিধিনিষেধের গেরোতেও আটকে যায় কিছু রক্তদান কর্মসূচি।
তা হলে উপায়? উপায় বের করলেন ওঁরাই। ‘ব্লাড অন কল’ পরিষেবা চালু করে রক্তের সঙ্কট মেটাতে উদ‌্যোগী হন তাঁরা। নির্বাচন মিটতেই কোভিড-বিধি মেনে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে ইন্ডিয়ান মেডিক‌্যাল অ‌্যাসোসিয়েশন, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞানমঞ্চ-সহ বেশ কিছু সংস্থা। বিভিন্ন সরকারি অফিস কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক দলগুলির পৃথক উদ‌্যোগেও আয়োজিত হয় রক্তদান শিবির। জেলা স্বাস্থ‌্য দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, “জেলা জুড়ে বিভিন্ন উদ‌্যোগে রক্তদান শিবির হওয়ায় রক্তের সঙ্কট আগের থেকে অনেকটাই কমেছে।”
শহিদ ক্ষুদিরাম পাঠাগারের সম্পাদক নীলেন্দু সাহা বলেন, “নির্বাচনের কারণে গত মাসে রক্তদান শিবির করা যায়নি। আবার করোনার বাড়াবাড়িও রক্তদানে একটা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিল। কিন্তু রক্তের চাহিদা অনুভব করে ‘ব্লাড অন কল’ এর মাধ‌্যমে প্রায় ১৫০ জনকে রক্তদান করা হয়েছে।”
আর এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সঞ্জীবনী’-র প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, “রক্তের চাহিদা উপলব্ধি করে আমরা ‘ব্লাড অন কল’ পরিষেবা দিয়েছি। কিন্তু এটা কোনও সুরাহা নয়। ব্লাডব‌্যাঙ্কে পর্যাপ্ত রক্ত না থাকলে চিকিৎসাক্ষেত্রে যে সঙ্কট তৈরি হয় তা অধরাই রয়ে যাবে। এর জন‌্য ব্ল‌্যাডব‌্যাঙ্কে পর্যাপ্ত রক্ত মজুত থাকাই একমাত্র নিশ্চিত সুরাহা।”
‘আমরা ছাত্র রক্তের সন্ধানে’ নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার রুবেল শেখ বলেন, “এই সঙ্কট আঁচ করেই গত বছর থেকে আমরা নিজস্ব উদ‌্যোগে রক্তদাতাদের এলাকাভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত করি। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ জন রক্তাদাতাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা গিয়েছে। গত ১৫ দিনে ৭৬ জনকে রক্তদান করেছেন তাঁরা।”
মুর্শিদাবাদ ব্লাড ব‌্যাঙ্কের অশোক নাথ বলেন, “রক্তের যে ব‌্যাপক সঙ্কট তৈরি হয়েছিল তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বিভিন্ন গ্রুপের প্রায় ২০০ বোতল রক্ত বর্তমানে মজুত আছে ব্লাডব‌্যাঙ্কে।” মুর্শিদাবাদ জেলার মুখ‌্য স্বাস্থ‌্য আধিকারিক প্রশান্ত বিশ্বাস বলেন, “কোভিডবিধির কারণে রক্তদান শিবিরগুলি বন্ধ থাকায় একটা সঙ্কট তৈরি হয়েছিল। তবে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির উদ‌্যোগে শিবিরগুলি হওয়ায় সঙ্কট অনেকটাই মিটেছে।”

(ফিচার ছবি গুগল থেকে নেওয়া)