চন্দ্রপ্রকাশ সরকার

গত বছর মার্চে কোনও রকম প্রস্তুতি ছাড়াই মহামহিম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি লকডাউন ঘোষণা করে দিয়েছিলেন। আচমকাই অভ্যস্ত জীবনযাত্রা থেকে ছিটকে গিয়ে আতান্তরে পড়েছিল আসমুদ্রহিমাচল। জনজীবনের সেই দুর্বিষহ, দুর্দিনে অসহায়-নিরন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল বহু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন সমূহ। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল সিপিআইএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই এবং ছাত্র সংগঠন এসএফআই। সেই ছাত্র-যুবরাই এ বছর এই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দলীয় পতাকা সরিয়ে রেখে রেড ভলান্টিয়ার্স নাম নিয়ে করোনা-ক্লিষ্ট বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ান। মূলত জনপরিসরে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠা এবং নির্বাচনে তার ফল ওঠানোর লক্ষ্যেই এই ভোলবদল। কিন্তু তাতেও নির্বাচনী সুফল কিছুই ওঠেনি। তবু রেড ভলান্টিয়ার্স মাঠ ছেড়ে পালায়নি।
করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গে এই রাজ্যের জনজীবন যখন আরও শোচনীয়, তখন লাল স্বেচ্ছাসেবীদের মোবাইল নম্বরে খবর গেলেই অসহায় মানুষের বাড়িতে খাবার পৌঁছে যাচ্ছে, হয়ে যাচ্ছে ওষুধ-অক্সিজেন-অক্সিমিটারের ব্যবস্থা। হাসপাতালে রোগী ভর্তি, কোভিড টিকাকরণে সহায়তা থেকে শুরু করে প্রয়োজনে মৃত করোনা রোগীর সৎকার পর্যন্ত সবই তাঁরা সাধ্যমত করছেন। কৃতজ্ঞতাভাজন হচ্ছেন অসংখ্য অসহায় মানুষের। আনন্দবাজার পত্রিকার এক সাংবাদিক গত ২৩ মে প্রকাশিত উত্তর সম্পাদকীয়তে জানিয়েছেন যে, তাঁর কাছে খবর আছে, ‘এদের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৮০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে।’ এই বিপুল সংখ্যার সত্যতা সম্পর্কে আনন্দবাজারের এক অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিক একটি অনলাইন পত্রিকার উত্তর সম্পাদকীয় নিবন্ধে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর প্রশ্নের সমর্থনে প্রায় আশি লক্ষ জনসংখ্যার মুর্শিদাবাদ জেলার দৃষ্টান্ত সামনে রেখে বলেছেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় টেনেটুনে ৪০-৫০ জন রেড ভলান্টিয়ারের নাম ও ফোন নম্বার ঘুরে বেড়াচ্ছে।”  আমারও মনে হয়েছে রাজ্যের সংখ্যাটা বাড়িয়ে দেখানো! মুর্শিদাবাদ জেলার খবরাখবর আমিও খানিকটা রাখি। সেই জায়গা থেকে মনে হয়েছে রাজ্যের সংখ্যাটি সঠিক নয়।
কিন্তু প্রশ্নটি নিছক সংখ্যাতত্ত্বের নয়। প্রশ্নটি হল নীতি ও আদর্শের। নীতি মানে হলো ভারতের মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টি নামক যে দলটির ছত্রচ্ছায়ায় তাঁরা কাজ করছেন সেই দলটির রণনীতি, যার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে রণকৌশল। ‘রণকৌশল’-এ এখন আর ‘রণ’ নেই, আছে কেবলই ‘কৌশল’! কে যেন কৌতুক করে বলেছিলেন, ‘মরি তো মরিব কৌশল করিয়া মরিব!’ সিপিআইএম দলটির হয়েছে সেই দশা। তাদের রণনীতি অর্থাৎ তত্ত্ব অনুযায়ী ভারতবর্ষের জাতীয় বুর্জোয়া শ্রেণি জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবের (যার অপর নাম জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব) মিত্রশক্তি। কিন্তু এই শ্রেণির পূর্ণ মদতে জওহরলাল নেহরু বা তৎ কন্যা ইন্দিরা গান্ধীর আমলে কংগ্রেস যখন নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় ছিল, তখন কংগ্রেস ছিল ‘শ্রেণিশত্রু’, ইন্দিরা ছিলেন ‘রক্তপিপাসু  রাক্ষসী’! আবার কংগ্রেস যখন ক্ষমতাচ্যুত হল, দেশি-বিদেশি কর্পোরেট পুঁজির মদতে ক্ষমতাসীন হলো বিজেপি, তখন আবার কংগ্রেসের শ্রেণিচরিত্র পাল্টে গেল! কংগ্রেস হয়ে গেল মিত্রশক্তি। নির্বাচনী প্রয়োজনে কেরল এবং তামিলনাড়ুতে মুসলিম লিগও তাদের শ্রেণিমিত্র ছিল একসময়। এ বারেও এই রাজ্যের নির্বাচনেও একজন ধর্মগুরুর নেতৃত্বে গঠিত ধর্মীয় পরিচয় ভিত্তিক আইএসএফ-কে নিয়ে কত আদিখ্যেতা! আসলে তাদের ডিএনএ-তেই রয়েছে ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতিকে সমর্থনের উৎস। অবিভক্ত সিপিআই ১৯৩৯ সালে মুসলিম লিগের পাকিস্তানের দাবিকে ‘জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবি’ বলে সমর্থন জানিয়েছিল।

চরম আত্মকেন্দ্রিকতার এই দুঃসময়ে যে সমস্ত তরুণ-তরুণীরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়েও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ব্যাকুল, তাঁদেরকে অভিনন্দন জানাবো অবশ্যই। মানুষকে তাৎক্ষণিক ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি পুঁজিবাদী শোষণ থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজতেও অনুরোধ করব এই সমস্ত লাল স্বেচ্ছাসেবীদের। অন্যথায় এই সমস্ত অপাপবিদ্ধ সরলমতি ছাত্র-যুবরাও একদিন আপন নিয়মেই তাঁদের পূর্বসূরিদের মতোই হয়ে পড়বেন এবং একই রাজনীতি আঁকড়ে ধরে শেষ পর্যন্ত সার বুঝবেন ‘রণকৌশল’— যে রণকৌশলের ‘রণ’ কেবলই ভোটযুদ্ধ বোঝায়, আর কৌশল মানে যে কোনও উপায়ে ভোটে জেতার কৌশল!

সময়-সুযোগ মতো সিপিএমের শ্রেণিশত্রু ও শ্রেণিমিত্রের ধারণা এ ভাবে পাল্টে পাল্টে যায় কেন? পাল্টে যাওয়ার প্রেরণা রয়েছে তাদের দলের সাংবিধানিক রণনীতির মধ্যেই। বুর্জোয়া বিপ্লবের তত্ত্ব মানতে গেলে এটাও মানতে হবে যে, আম্বানি, আদানি, টাটা, বিড়লারা— যাঁরা ইতিমধ্যেই কর্পোরেট চরিত্র অর্জন করে রাষ্ট্রব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছেন— তাঁরা সবাই বিপ্লব চান, বুর্জোয়া বিপ্লব! এ কথা তাঁরা বিশ্বাস করেন বলেই চলতি কৃষক আন্দোলনের সমাধানকল্পে সরকার এবং কৃষক সংঘর্ষ সমিতির দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রস্তাবকে ত্রিপাক্ষিক করে তুলতে চেয়েছিলেন সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। তাঁর প্রস্তাবিত তৃতীয় পক্ষটি কে? পক্ষটি হল পুঁজিপতিদের প্রতিনিধি! কেন, পুঁজিপতিদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই যে-তিনটি কৃষি আইন রচিত হয়েছে, সেই আইনগুলি বাতিলের আলোচনায় সেই পুঁজিপতিদের প্রতিনিধিরা থাকবেন কেন, সরকার স্বয়ং যখন পুঁজিপতিদেরই প্রতিনিধি?
ক্ষমতায় টিকে থেকে দেশি-বিদেশি পুঁজির সেবাদাসত্ব করার জন্যই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার সিঙ্গুরে টাটাদের এবং নন্দীগ্রামে সালিমের স্বপ্ন-প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছিল। হ্যাঁ, বুদ্ধদেববাবু ব্যক্তিজীবনে অর্থনৈতিক দিক থেকে সৎ এবং সহজ-সরল-অনাড়ম্বর জীবনযাপনে অভ্যস্ত। কিন্তু এটাই যদি বিপ্লবী হওয়ার মাপকাঠি হয় তাহলে তো মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বেই এ দেশে বিপ্লব হয়ে যেত! দলের কোন রণনীতির গভীর প্রেরণায় বুদ্ধবাবু বুকঠুকে রতন টাটার কেশাগ্র স্পর্শ করতে না দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন প্রকাশ্যে? কোন শ্রেণির কাছে দায়বদ্ধতা প্রকাশ করতে আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমার দলও বনধ ডাকে!’ এটা কি দলবিরোধী কথা নয়? এ জন্য কি তাঁকে দলীয়ভাবে ভর্ৎসনা বা সতর্ক করা হয়েছে? সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের সেই উত্তাল সময়ে মার্কিন অর্থসচিব হেনরি পালসন এবং বিদেশসচিব হেনরি কিসিংগার মহাকরণ বয়ে ‘সংস্কারক’ বুদ্ধবাবুকে অভিনন্দন জানাতে এসেছিলেন। চিনের শোধনবাদী প্রয়াত নেতা দেং জিয়াও পিং-এর সাথে মিল খুঁজে পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। দু’জন গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সচিবের এহেন উচ্চকিত প্রশংসা কার্যত সাম্রাজ্যবাদেরই শংসাপত্র। ভারতের মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষে এই শংসাপত্র বা সার্টিফিকেট কি শ্লাঘনীয়?
বেকারত্বের জালায় জর্জরিত তরুণ-তরুণীদের কাছে  কর্মসংস্থান শব্দটির আকর্ষণ প্রবল। সেই আকর্ষণকে পুঁজি করে সিপিএম নেতৃত্ব বারংবার বোঝাতে চেয়েছেন, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামে টাটা-সালিমদের অটোমোবাইল কারখানা এবং কেমিক্যাল হাব স্থাপিত হলে এই রাজ্যে শিল্পায়নের বন্যা বয়ে যেত, আর তার মধ্য দিয়ে ঘুঁচে যেত এই রাজ্যের বেকারত্ব! সেয়ানা নেতারা কখনও এই প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর দিতে পারেননি যে, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের প্রস্তাবিত শিল্প-কারখানায় কত মানুষের কর্মসংস্থান হবে আর কত মানুষ কর্মহীন হবেন। সেই কর্মসংস্থানের ঢেকুর তুলে ওই দলের নেতা-কর্মীরা সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনেও নিজেদেরকে বেকার-দরদি আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেকার-বিরোধী প্রতিপন্ন করার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েছে। হ্যাঁ, এ কথা ঠিক যে, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কৃষক আন্দোলনের রাশ ঘটনাচক্রে তৃণমূল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে এসে গিয়েছিল। তিনিও সংসদীয় রাজনীতিতে সুবিধা করার জন্যই সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়েছিলেন। বিবেকবান নাগরিক সমাজ সরকারের বিরুদ্ধে চলে যাওয়ায় ‘পরিবর্তন’-এর ডাকে তৃণমূলের সুবিধা হয়েছিল।বামফ্রন্টের বকলমায় সিপিএমের সরকার নন্দীগ্রামে কেমিক্যাল হাবের নামে যা করতে চেয়েছিল সেটা হল স্পেশাল ইকোনমিক জোন (SEZ) বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, যেখানে প্রচলিত শ্রম আইন এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত  আইনগুলি একেবারেই অচল। সেজ বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল কার্যত বিশেষ শোষণাঞ্চল। দেশি-বিদেশি কর্পোরেট মালিকদের কাছে অবাধ শ্রমিক শোষণের উপায় হিসেবে সেজ হল সর্বাধিক পছন্দের জিনিস। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের যে সমস্ত কৃষিজীবী মানুষ জীবন পণ করে জমি রক্ষার লড়াই লড়েছিলেন, তাঁরা বস্তুত নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করেছিলেন। সেজ রুখবেন বলে লড়াই করেননি! কিন্তু বাস্তবে তাঁদের লড়াইয়ের ফলেই ভূমি সংক্রান্ত আইন পরিবর্তন করে সর্বনাশা সেজ প্রকল্প বাতিল করতে বাধ্য হয় কেন্দ্রীয় সরকার। সিপিএমের পোড়খাওয়া নেতারা এ কথা তাঁদের তরুণ কর্মীদের বুঝতে দেননি, দেবেনও না।
এ বারেও যেমন ‘নো ভোট টু বিজেপি’ প্রচারের ফলে তাদের সুবিধা হয়েছে। এরই বিপরীতে সিপিএমের চোরা প্রচার ছিল, ‘আগে রাম পরে বাম’! এ সব করতে গিয়ে সিপিএমের আম-ছালা দুটোই গেল! তবু তারা পরাজয় থেকে শিক্ষা নিতে চায় না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেহেতু তাদেরকে ক্ষমতাচ্যুত করেছেন, তাই তিনি হয়ে গেলেন শ্রেণিশত্রু আর জাতীয় বুর্জোয়া শ্রেণির বিশ্বস্ত দল কংগ্রেস হয়ে গেল শ্রেণিমিত্র! তাদের উঠতি তরুণ নেতা-কর্মীরা এ বারের নির্বাচনে বারংবার টেনে এনেছেন সিঙ্গুর প্রসঙ্গ। সিঙ্গুরে টাটাদের অটোমোবাইল কারখানাটি হলেই নাকি এই রাজ্যে শিল্পায়নের দরজা খুলে যেত! তা নেতাদের অনৃত ভাষণে প্রভাবিত এই সমস্ত কোমলমতি তরুণ নেতা-কর্মীরা একবারও ভেবে দেখেছেন কি সিঙ্গুরের থেকে গুজরাটের সানন্দে বেশি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া সত্ত্বেও টাটাদের ন্যানো কারখানা মুখ থুবড়ে পড়ল কেন?
সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের ঐতিহাসিক গণসংগ্রাম কর্পোরেটপ্রেমী সিপিএমকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে এ কথা সত্য, কিন্তু একমাত্র সত্য এটি নয়। নানা কারণে ফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যবাসীর ক্ষোভের বারুদ স্তূপীকৃত হচ্ছিল ১৯৭৭ সালে এই সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম সেই বারুদে অগ্নিসংযোগ করেছে মাত্র। অন্যান্য নানা জনবিরোধী নীতির কথা ছেড়েই দিলাম, ১৯৭৭ সাল থেকে ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ পর্যন্ত এই রাজ্যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশের গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে অন্তত ২৭টি, আর সেই সমস্ত ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১২১ জন আবালবৃদ্ধবনিতা।
সুতরাং চরম আত্মকেন্দ্রিকতার এই দুঃসময়ে যে সমস্ত তরুণ-তরুণীরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়েও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ব্যাকুল, তাঁদেরকে অভিনন্দন জানাবো অবশ্যই। মানুষকে তাৎক্ষণিক ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি পুঁজিবাদী শোষণ থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজতেও অনুরোধ করব এই সমস্ত লাল স্বেচ্ছাসেবীদের। অন্যথায় এই সমস্ত অপাপবিদ্ধ সরলমতি ছাত্র-যুবরাও একদিন আপন নিয়মেই তাঁদের পূর্বসূরিদের মতোই হয়ে পড়বেন এবং একই রাজনীতি আঁকড়ে ধরে শেষ পর্যন্ত সার বুঝবেন ‘রণকৌশল’— যে রণকৌশলের ‘রণ’ কেবলই ভোটযুদ্ধ বোঝায়, আর কৌশল মানে যে কোনও উপায়ে ভোটে জেতার কৌশল! এটা এখনই না বুঝলে দলীয় নেতৃত্বের আপাত পরিবর্তন হয়ে দাঁড়াবে কার্যত বৃদ্ধ-অসক্ত পিতার জায়গায় দোকানের টাটে তরুণ পুত্রের বসার মতো।
(ফিচার ছবি গুগল থেকে নেওয়া। মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)