শঙ্কর মণ্ডল হোগলবেড়িয়া

দুয়ারে সরকারের কথা তিনি শুনেছিলেন। কিন্তু দুয়ারে পুলিশ? সে পুলিশ আবার এ বঙ্গের নয়, দিল্লির! এসে আবার হাতে ধরিয়ে দিয়েছে চিঠি। চকিতে যে চিঠির সারমর্ম— ‘৩০ জুলাই সকাল ১১টার সময় আপনাকে দিল্লির সাউথ এভিনিউ থানায় তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে উপস্থিত হতে হবে।’
সে চিঠির বয়ান শোনার পরে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে বছর সাতাশের সাকিনা বিবির। হোগলবেড়িয়ার বাসিন্দা সাকিনা বলছেন, ‘‘ওই এক চিঠির ধাক্কায় আমার সব এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। রাতে ঘুমোতে পারছি না। কী করব তা-ও বুঝতে পারছি না।’’
সাকিনার বাবার বাড়ি ডোমকল থানার গড়াইমারিতে। তাঁর লেখাপড়ার দৌড় চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত। বছর কয়েক আগে তাঁর বিয়ে হয় হোগলবেড়িয়ায়। স্বামী লালন মণ্ডল দিনমজুর। তাঁদের বছর সাতেকের এক ছেলে রয়েছে। অভাবের সংসার হলেও সুখে-দু:খে দিন কাটছিল বেশ। কিন্তু এক চিঠিতেই টলে গিয়েছেন সাকিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যেরা।
দিল্লি পুলিশ সূত্রের খবর, একটি ফোন নম্বর থেকে দিল্লির এক মহিলার কাছে ফোন যায় এবং জালিয়াতি করে সেই মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে, ওই ফোন নম্বরটি সাকিনা বিবির! যা শুনে আকাশ থেকে পড়ছেন সাকিনা, ‘‘আমাদের বাড়িতে একটাই ফোন। কিন্তু সে নম্বর তো এটা নয়! অন্য কেউ জালিয়াতি করে আমার ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে কিনা সেটাও পুলিশ দেখুক।’’
ইতিমধ্যে সাকিনা দিল্লি পুলিশকে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছেন, তিনি তদন্তে সবরকম সাহায্য করতে প্রস্তুত। কিন্তু এই মূহূর্তে করোনা ও অর্থাভাবের কারণে তিনি দিল্লি যেতে পারছেন না। পুলিশের কাছে তিনি তিন মাস সময় চেয়েছেন। এ দিকে, ৩০ জুলাই পেরিয়ে গিয়েছে। উদ্বিগ্ন সাকিনার শুধু একটাই প্রশ্ন, ‘‘যে ফোন নম্বর আমি কোনওদিন ব্যবহারই করলাম না, সেই ফোন নম্বর আমার হয় কী করে?’’
দিল্লির সাউথ এভিনিউ থানার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে নিখিল রমন নামে এক পুলিশ আধিকারিক জানান, তাঁরা সাকিনার চিঠি পেয়েছেন। গোটা বিষয়টি তাঁরা খতিয়ে দেখছেন।
(ফিচার ছবি গুগল থেকে নেওয়া)