অনির্বাণ বিশ্বাস

আগে ছিল দেওয়াল, এখন হয়েছে ওয়াল!
করোনার আগে: ক্লাস চলত নিজের ছন্দে। হঠাৎ তাল কেটে ঘরের সামনে এসে শিক্ষাকর্মী বলতেন, ‘‘আসব স্যর?’’ শুরু হয়ে যেত পড়ুয়াদের ফিসফাস—‘অ্যাই কিসের নোটিস রে?’, ‘কী করে বলব?’, ‘আজ মনে হয় তাড়াতাড়ি ছুটি হয়ে যেতে পারে!’ চশমাটা ঠিক করে শিক্ষাকর্মীর হাত থেকে নোটিসটা নিয়ে স্যর পড়তেন, ‘‘আগামী….।’’ সব ক্লাস প্রদক্ষিণ করে অবশেষে ক্লান্ত হয়ে সেই নোটিস ঝুলে থাকত স্কুলের দেওয়ালে। এ ভাবেই মুখে মুখে বার্তাটা রটে যেত ক্রমে।
করোনার পরে: ভরা ক্লাসরুমে শিক্ষক পড়াচ্ছেন— এ দৃশ্য এখন কষ্ট-কল্পনা। ক্লাস মানে অনলাইন। আর সরকারি স্কুলে ‘অ্যাক্টিভিটি টাস্ক’। আর নোটিস? তা-ও আছে। তবে তার কায়দা বদলে গিয়েছে। এখন তাকে আর ক্লাসে ক্লাসে ঘুরতে হয় না। ফলে ক্লান্ত হওয়ারও প্রশ্ন নেই। সটান সে জায়গা করে নিচ্ছে ফেসবুকের ‘ওয়াল’-এ। উৎসবে, আনন্দে, শ্মশানে, রাষ্ট্রবিপ্লবে কেউ পাশে থাকুক বা না থাকুক জুকারবার্গের যৌথখামারে এখন সবাই সবার বন্ধু! ফলে ফেসবুকের ওয়াল-এ পোস্ট করা প্রধানশিক্ষকের নোটিসের নীচেও পড়তে থাকে ‘লাইক’, ‘ওয়াও’, ‘লাভ’। ‘শেয়ার’-এ, ‘শেয়ার’-এ ডিজিটাল-বার্তাও রটে যায় মুহূর্তে।
করোনার কারণে বদলে গিয়েছে বহু কিছু। সেই বদলের ছোঁয়া লেগেছে স্কুলেও। ছেলেমেয়েরা স্কুলে না গেলেও স্কুলের কাজকর্ম কিন্তু বন্ধ নেই। মিডডে মিল-সহ আরও অনেক কাজের জন্য শিক্ষকদের স্কুলে যেতে হচ্ছে। দিতে হচ্ছে নোটিসও। চেঁচানিয়া কৃষি বিদ্যালয়ের টিচার ইন-চার্জ পুষ্পেন সরকার বলছেন, ‘‘আপাতত এই পরিস্থিতিতে নোটিসের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াই বড় ভরসা। তবে যাঁরা ফেসবুকে নেই, তাঁদের ফোন করে বা অন্য ভাবে বিষয়টি জানাতে হচ্ছে।’’
বালিয়াডাঙা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অসিত পাল বলছেন, ‘‘ফেসবুকের বন্ধু তালিকায় বহু পড়ুয়া ও অভিভাবক আছেন। ফলে সেখানে নোটিস দিয়ে দিলেই কাজ হয়ে যায়। তবে এই পরিস্থিতি কবে বদলাবে, কে জানে!’’