রঞ্জন ভট্টাচার্য

 

 

 

ইন্ডিয়ান সাইকিয়াট্রিক সোসাইটি ও ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট সাইকিয়াট্রি-র পশ্চিমবঙ্গ শাখা মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে একটি সম্মেলন ও কর্মশালার আয়োজন করেছিল। গত ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খ্যাতনামা মনোরোগ বিশেষজ্ঞেরা সেখানে যোগ দেন। করোনার কারণে এই প্রথম বার গোটা বিষয়টির সিংহভাগ অনুষ্ঠিত হল ভার্চুয়াল মাধ্যমে।

মনোবিজ্ঞান কারিগরি সহায়তায় আগামী দশকে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে চলেছে। জাতীয় মানসিক সমীক্ষায় উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে, আমাদের দেশে প্রতি সাত জনের মধ্যে একজনের কিছু মানসিক সমস্যা রয়েছে। অথচ ১৩৫ কোটি জনসংখ্যার দেশে মাত্র ৭০০০ জন মনোচিকিৎসক রয়েছেন। আর এই রাজ্যে সেই সংখ্যাটা আনুমানিক ৩৫০-র কাছাকাছি।

কোভিডলকডাউন এবং পারিপার্শ্বিক আর্থ-সামাজিক সমস্যার জন্য মানসিক সমস্যাও উত্তরোত্তর বাড়ছে। বিশেষ করে মানসিক অবসাদউদ্বেগ প্রবণতাঅমূলক ভয় পাওয়ানেশায় আসক্ত হওয়ার মতো ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইন্টারনেটের প্রতি আসক্তিলকডাউনের বন্দিদশা  শিশুমনে প্রভাব ফেলছে। মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখা কিন্তু শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই দরকারি এবং অত্যন্ত জরুরি।

এই কঠিন সময়ে স্নায়ু ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের এমন ভূমিকা প্রশংসনীয়। জনমানসে মনোরোগ নিয়ে গ্লানি আর কুণ্ঠাবোধ দূর করাটাই এখন মূল উদ্দেশ্য। এ বার সাইকন ২০২০‘ তে নিউরোসাইকিয়াট্রি ও আইডেন্টিটি ক্রাইসিস বিষয়ে প্রথিতযশা মনোচিকিৎসকেরা বক্তব্য রেখেছেন। শিক্ষামূলক আলাপ-আলোচনা ও একটি বিতর্ক সভারও আয়োজন করা হয়েছিল।

কবি লিখেছিলেন, ‘অচেনাকে ভয় কী আমার ওরে… অচেনাকে চিনে নেওয়ার মধ্যে যে একধরনের চ্যালেঞ্জ আছে,তা গ্রহণ করার আনন্দই আলাদা। কোভিড-যুগে আশপাশ মুখোশে ঢাকা। চেনা মুখ সেখানে অচেনা, কথোপকথনের ধরন অচেনা, আলোচনা মঞ্চের গড়ন আলাদা। পরিবর্তিত এই নতুন-স্বাভাবিকতায় “সাইকন ২০২০”র মতো বড় অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব ছিল না। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে অচেনাকে নতুন করে চিনিয়ে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আয়োজক কমিটি।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বেশ কয়েকজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বিদেশ থেকে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন যা এই তরুণ প্রজন্মের কাছে খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। অ্যানুয়াল জেনারেল বডি মিটিং‘ এর পরে মাননীয় সভাপতি মহাশয় মাননীয় সম্পাদক মহাশয় এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা নির্বাচিত হন।

 

( লেখক মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের মনোরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান  )