অনির্বাণ বিশ্বাস

শাপ-শাপান্ত কথাটা চেনা। কিন্তু শীত-শাপান্ত?
নদিয়া-মুর্শিদাবাদের প্রান্তিক এই জনপদ এই কথাটার মানে জানে হাড়ে হাড়ে। বইমেলা, বড়দিন, পিঠেপুলি, পায়েস, পিকনিকের সঙ্গেই লেপ্টে থাকে কুয়াশা। আর তাই নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে কুয়াশা পড়তে শুরু করলেই কু ডাকে মন!
নদিয়া কিংবা মুর্শিদাবাদে নভেম্বর থেকে জানুয়ারির স্মৃতি মোটেই সুখের নয়। ১৩ জানুয়ারি, ১৯৯৮। ঘটনাস্থল পদ্মাপাড়ের জলঙ্গি। মুর্শিদাবাদ থেকে পিকনিক সেরে ফিরছিল বাসটি। ঘন কুয়াশায় পথ হারায়। এবং পদ্মায় সলিলসমাধি হয় ৫৭ জনের। ২৯ জানুয়ারি, ২০১৮। নদিয়ার করিমপুর থেকে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর হয়ে মালদহে যাচ্ছিল বাসটি। মুর্শিদাবাদের বালিরঘাটে দুর্ঘটনা। ভাণ্ডারদহ বিলে পড়ে যায় বাসটি। মারা যান প্রায় ৩৬ জন।
শীতসকালের এমন উদাহরণ আরও আছে। সেই তালিকায় শেষতম সংযোজন হাঁসখালির ফুলবাড়ি মাঠ। উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থেকে দাহ করার জন্য ৩৫-৪০ জন ম্যাটাডোরে চেপে আসছিলেন নবদ্বীপ শ্মশানে। শনিবার গভীর রাতে হাঁসখালির ফুলবাড়ি মাঠের কাছে একটি দাঁড়িয়ে থাকা পাথরবোঝাই লরিকে ধাক্কা মারে ওই ম্যাটাডোরটি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শীত পড়ে গিয়েছে। রাত থেকেই জমাট হচ্ছে কুয়াশাও। এ দিকে গাড়ির গতিও ছিল বেশ। হয়তো এই দুইয়ের কারণেই এমন অঘটন। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশও জানিয়েছে, ঘন কুয়াশায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এমন বিপত্তি।
দুর্ঘটনার পরে আহতদের নিয়ে যাওয়া হয় শক্তিনগর হাসপাতালে। সেখানেই ১৮ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। জখমদের চিকিৎসা চলছে। ওই ঘটনার পরে মৃতদের পরিবারের প্রতি টুইটে সমবেদনা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ও সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
এ দিকে, ওই দুর্ঘটনার পরে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে। দুর্ঘটনায় মৃতের এক আত্মীয়ের অভিযোগ, ‘‘আমার এক আত্মীয় গুরুতর জখম হয়েছিলেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তিও করানো হয়েছিল। তিনি জলের জন্য ছটফট করছিলেন। অথচ হাসপাতালে কর্তব্যরত কোনও নার্স বা আয়া একটু জল দিতেও এগিয়ে আসেননি। আর সেই কারণেই আমার ওই আত্মীয় মারা যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই অমানবিক আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।’’
অভিযোগ পেয়ে হাসপাতালে আসেন শহর তৃণমূল সভাপতি শিশির কর্মকার। তিনি আহতদের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলেন। এ দিনের ওই দুর্ঘটনায় মৃতের পরিবারের হাতে দু’লক্ষ টাকার চেক তুলে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস-সহ অন্য বিধায়কেরা।