আব্দুল হাসিম রানিনগর

পথচলতি কেউ কেউ থমকে দাঁড়িয়ে পড়ছেন। কেউ আবার খুঁটিয়ে পড়ার চেষ্টা করছেন ফ্লেক্সের লেখা। কেউ আবার চায়ের দোকানে বসে বললেন, ‘‘এমন দিনও যে দেখতে হবে, কে জানত!’’
করোনার কারণে দীর্ঘদিন স্কুলে যায়নি পড়ুয়ারা। সম্প্রতি স্কুল খুলেছে। শুরু হয়েছে পঠনপাঠন। কিন্তু পড়ুয়াদের উপস্থিতি আগের মতো নেই। ছাত্রছাত্রীদের পুনরায় স্কুলে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হলেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার রানিনগরের কোমনগর হাই মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকারা এ দিন পথে নেমেছিলেন। সঙ্গী হয়েছিল স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও কন্যাশ্রী যোদ্ধারাও। বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্কুল আসার জন্য আহ্বান জানালেন সকলেই।
স্কুল বন্ধ থাকায় কোনও পড়ুয়ার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। কেউ আবার বেছে নিয়েছে রোজগারের পথ। স্কুলের খাতায় তাদের নাম থাকলেও স্কুলে আসছে না তারা। রোল করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে উপস্থিতির হার যথেষ্ট কম। এ দিন কোমনগর এলাকার বিভিন্ন গ্রামে গিয়েছিলেন কোমনগর হাই মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
কোমনগর হাই মাদ্রাসার শিক্ষক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘‘স্কুলছুট পড়ুয়াদের স্কুলে ফিরিয়ে আনতেই এই উদ্যোগ। গ্রামে গ্রামে গিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করা হয়েছে। বোঝানো হয়েছে, তাঁরা যেন ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠান। স্কুলের ছাত্রছাত্রীরাও এ দিন আমাদের সঙ্গে ছিল।’’ দশম শ্রেণির ছাত্রী রুম্পা খাতুনের কথায়, ‘‘আমাদের সহপাঠীদের অনেকেই স্কুলে আসছে না। তাই এ দিন আমরা স্যরদের সঙ্গে বেরিয়েছিলাম।’’
কোমনগর হাই মাদ্রাসার প্রধানশিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, ‘‘আমরা নানা ভাবে অভিভাবকদের বোঝানোর চেষ্টা করছি, তাঁরা যেন ছেলেমেয়েদের ফের স্কুলে পাঠান। এ দিনের উদ্যোগও সেই কর্মসূচির অঙ্গ।’’