নিজস্ব প্রতিবেদন

করিমপুর আছে করিমপুরেই!
সম্প্রতি নদিয়ায় এসে প্রশাসনিক সভায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া বার্তা দিয়ে গিয়েছিলেন, ‘‘সবাই মিলে একসাথে কাজ করতে হবে, এটা আমি বলে গেলাম।’’ তৃণমূলের কৃষ্ণনগর উত্তর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি জয়ন্ত সাহাকেও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে।’’
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেও মিলমিশ তো দূরের কথা, গোষ্ঠীকোন্দল ক্রমে বেড়েই চলেছে। রবিবার দুপুরে করিমপুরের জামতলা মোড় এলাকার একটি রক্তদান শিবিরকে কেন্দ্র করে সেই কোন্দল আরও প্রকট হয়ে উঠল। তৃণমূলের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হল জেলা সভাপতি জয়ন্ত সাহাকে।
দলেরই একাংশের অভিযোগ, ‘‘বিক্ষোভ কোথায়, এ তো রীতিমতো হেনস্থা! দলের জেলা সভাপতিকে প্রকাশ্যে করিমপুর-কৃষ্ণনগর রাজ্য সড়কের উপরে বেশ কয়েক মিনিট ধরে যে ভাবে হেনস্থার মুখে পড়তে হল তাতে দলেরই ক্ষতি হল।’’
রবিবার স্থানীয় একটি সংস্থার উদ্যোগে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল জামতলায়। তৈরি করা হয়েছিল মঞ্চও। এ দিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের কৃষ্ণনগর উত্তর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি জয়ন্ত সাহা, তেহট্টের বিধায়ক তাপস সাহা, ডোমকলের বিধায়ক জাফিকুল ইসলাম, করিমপুরের বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহ রায়, মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস-সহ তৃণমূলের বিশিষ্ট নেতারা।
এ দিন বিধায়ক তাপস সাহা বলেন, ‘‘যে দলটাকে আমরা তিলতিল করে তৈরি করেছি সেই দলে কোনও বিভাজন মেনে নেব না। সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচন। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারও একা মাতব্বরি মেনে নেওয়া হবে না। করিমপুরে বিমলদা (বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহ রায়) শেষ কথা বলবে।’’ বক্তব্য রাখেন জয়ন্ত সাহাও। মঞ্চ থেকে নেমে সংবাদমাধ্যমের সামনে জয়ন্তবাবু বলেন, ‘‘দলনেত্রী যেমন নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন সে ভাবেই আমরা চলছি। আর সামান্য যা কিছু সমস্যা রয়েছে সেগুলোও মিটে যাবে।’’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, এরপরেই জয়ন্তবাবু গাড়িতে ওঠার জন্য হাঁটছিলেন। তখনই তৃণমূলের পতাকা হাতে বেশ কয়েকজন যুবক বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তারপরেই বহিরাগত কিছু লোকজন গন্ডগোল শুরু করে। অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীনই জয়ন্তবাবুকে হেনস্থা করা হয়। ওই ঘটনায় কয়েকজন জখমও হন। এ দিনের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। তৃণমূলেরই একাংশের দাবি, পুলিশ আরও একটু সক্রিয় থাকলে অনায়াসেই এমন ঘটনা এড়ানো যেত। যদিও এমন অভিযোগ মানতে চায়নি পুলিশ। পুলিশের দাবি, সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জয়ন্তবাবুর বক্তব্য, ‘‘এটা একেবারেই অভ্যন্তরীণ ঘটনা। এর সঙ্গে রাজনীতির প্রত্যক্ষ যোগ নেই। আর যা ঘটেছে সেটা পুলিশের সামনেই ঘটেছে। ফলে প্রশাসন তাদের মতো করেই যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে।’’ কারামন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের প্রতিক্রিয়া, ‘‘যারা মনে করছে অন্যের জীবন নেওয়ার জন্য তৃণমূলের পতাকা ব্যবহার করবে, তাদের জানিয়ে যাচ্ছি, এমন লোকের আমাদের দরকার নেই। এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামীকাল আমি মোমবাতি মিছিল করার কথা বলেছি।’’ আর করিমপুরের বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহ রায় বলেন, ‘‘আজকের ওই ঘটনায় আমি হতভম্ব। এই ঘটনার নেপথ্যে কেউ না কেউ নিশ্চয় আছে। সেটা উজ্জ্বলদা ও জয়ন্ত দু’জনেই বুঝতে পেরেছেন।’’
তবে এ দিনের ওই রক্তদান শিবিরকে কেন্দ্র করে পাল্টা কিছু অভিযোগও উঠেছে। করিমপুর ১ ব্লক তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি সৌমিক সরকার বলছেন, ‘‘একটি সংস্থার উদ্যোগে রক্তদান শিবির হল। সেখানে তৃণমূলের জেলা সভাপতি, বিধায়ক, মন্ত্রী ও অন্য নেতারা এলেন। অথচ, করিমপুর ১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কাউকে ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। রক্তদান শিবির। অথচ সেখানে দলীয় পতাকা টাঙানো হয়েছে। সেই সঙ্গে মঞ্চ থেকে সাংসদ মহুয়া মৈত্র সম্পর্কে ইঙ্গিতপূর্ণ কিছু মন্তব্য করা হচ্ছিল। আমরা এই বিষয়েই সভাপতির কাছে জানতে চেয়েছিলাম। তখনই কয়েকজন দুষ্কৃতী আমাদের ছেলেদের উপরে হামলা করে। আমরা সেটা প্রতিহত করেছি মাত্র।’’