অনির্বাণ বিশ্বাস

সেই ছোটবেলায় তিনি পড়েছিলেন, হাঁটুর নীচে দুলছে খুকুর গোছা ভরা চুল! কিন্তু ওই পর্যন্তই! পরে চুল নিয়ে চুলোচুলি বা আদিখ্যেতা কোনওটাই করার সময় তিনি পাননি। বরং, নিজের লক্ষ্যে স্থির থেকেছেন এবং সফল হয়েছেন। পরে যখন সহকর্মীরা তাঁর চুল নিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘‘ইস, তোর মতো আমাদেরও যদি এমন ঘন, লম্বা চুল থাকত তা হলে…।’’ তিনি সে সব কথাতেও কান দেননি। কিন্তু ‘‘চুল পেলে বহু ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর উপকার হয়’— কথাটা কানে আসতেই তিনি আর দেরি করেননি। সঙ্গে সঙ্গে বেশ কয়েক জায়গায় যোগাযোগ করে তিনি ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের জন্য নিজের চুল দান করেছেন।
তিনি দেবযানী সাহা। পেশায় স্টাফ নার্স। কর্মস্থল বহরমপুরের গীতারাম হাসপাতাল। দেবযানী নদিয়ার মুরুটিয়া থানার কেচুয়াডাঙার বাসিন্দা। দেবযানী বলছেন, ‘‘আমি কখনও কোনও ক্যানসার আক্রান্ত রোগীকে সামনাসামনি দেখিনি। তবে তাঁদের যন্ত্রণা ও কষ্টের কথা শুনেছি। অনুভবও করেছি। তাই আমার বন্ধু হুমায়ুন কবীর মণ্ডল যখন গোটা বিষয়টি বলল তখন আর দেরি করিনি। প্রায় ১৪ ইঞ্চি চুল কেটে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের জন্য দান করেছি।’’
দেবযানীর এমন কাজে খুশি তাঁর পরিবার ও বন্ধুরা। গত বছর এ ভাবেই ক্যানসার আক্রান্ত মহিলাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বহরমপুরের খাগড়ার বাসিন্দা, নার্সিংয়ের ছাত্রী ভ্রমর সিংহ। তিনি ‘মদত ট্রাস্ট’ নামে একটি সংস্থার কাছে কুরিয়ার করে পাঠিয়েছিলেন নিজের চুল। প্রাপ্তি-স্বীকার করে মুম্বইয়ের ওই সংস্থা ভ্রমরকে একটি শংসাপত্রও পাঠায়।
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কেমোথেরাপির কারণে ক্যানসার আক্রান্তদের চুল উঠে যায়। অনেক সময় ক্যানসার সেরে যাওয়ার পরেও বহু মহিলাকে এই সমস্যায় ভুগতে হয়। ‘হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট’ করা বেশ খরচ সাপেক্ষ বলে অনেকেই ‘উইগ’ ব্যবহার করেন। পেশায় নার্স দেবযানী গোটা বিষয়টি জানতে পারার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘খড়্গপুরে একটি সংস্থা ক্যানসার আক্রান্তদের জন্য কাজ করে। সেখানেই আমার চুল পাঠিয়েছি। আমার অনুরোধ, অনেকেই তো হেয়ার স্টাইলের জন্য অনেক সময় চুল কেটে ফেলেন। সেটা নষ্ট হয়। তা না করে ক্যানসার আক্রান্তদের জন্য দান করুন। তাতে আর কিছু না হোক, অনেকের মুখে হাসি তো ফুটবে।’’