তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল ● কলকাতা

চল্লিশের চৌকাঠ পেরনোর পরে শরীরে হানা দিত বেশ কিছু অপ্রিয় অতিথি। কিন্তু এখন আর বয়স বাধা হচ্ছে না। ২০-২২ বছরের তরুণ-তরুণীদের দেহেও‌ সেই অতিথিরা তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। তাই বাড়তি চিন্তা তৈরি হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের শহুরে বাসিন্দাদের ৪০ শতাংশ হাইপারটেনশনের সমস‍্যয় ভোগেন। যাদের মধ‍্যে রয়েছেন কমবয়সীরাও। শেষ কয়েক বছরে দেখা গিয়েছে, ভারতে হৃদরোগের সমস‍্যা বাড়ছে। বিশেষত, পুরুষদের মৃত‍্যুর অন‍্যতম কারণ হিসাবে হৃদরোগের সমস‍্যা দেখা গিয়েছে। আর হৃদসমস‍্যাকে জটিল করতে হাইপারটেনশন-র ভূমিকা অত‍্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রামে অবশ‍্য শহরের তুলনায় এই রোগের প্রকোপ কম। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্রামের ১৭ শতাংশ মানুষ হাইপারটেনশনের সমস‍্যায় ভোগেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের অন্যতম নন-কমিউনিকেবল রোগের তালিকার প্রথম দিকেই রয়েছে হাইপারটেনশন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ব‍্যস্ত জীবনযাপন মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি অনিয়মিত ও অস্বাস্থ্যকর খাদ‍্যাভাসের জেরেও এই ধরনের সমস্যা বাড়ছে। অক্টোবর মাস হাইপারটেনশন সচেতনতা মাস হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। জীবনযাপনের মান বাড়াতে এই ধরনের লাইফস্টাইল ডিজিস সম্পর্কে সতর্ক হওয়া জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা জরুরি। অনেকেই উচ্চ রক্তচাপের সমস‍্যায় ভোগেন। কিন্তু সে সম্পর্কে কিছুই জানেন না। কারণ, উচ্চ রক্তচাপের জন্য আলাদা কোনও উপসর্গ অনেক সময়ে বোঝা যায় না। ফলে, বিপদ কতখানি বাড়ছে সে নিয়ে ওয়াকিবহাল না হলে সমস্যা আরও জটিল হয়ে যায়। হাইপারটেনশনের মতো সমস‍্যার জন‍্য হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি স্ট্রোক, কিডনি, চোখের সমস‍্যাও দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, হাইপারটেনশনের মতো সমস‍্যা কখনও সম্পূর্ণ সেরে যায় না। নিয়মমাফিক চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে বিপদের আশঙ্কাও কমে। করোনা পরিস্থিতিতে এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও বেশি সতর্কতা জরুরি বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস‍্যা করোনার ক্ষেত্রে বাড়তি বিপদ তৈরি করছে। তাই আরও বেশি সচেতনতা জরুরি।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, নিয়মিত শারীরিক কসরত জরুরি। বাড়ির ভিতরেও নানা ধরনের ব‍্যায়াম করা যায়। সেগুলো নিয়ম করে করতে হবে। পাশপাশি খাবারের দিকে বাড়তি নজর দিতে হবে। কোনও ভাবেই অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া করা চলবে না। অতিরিক্ত তেলমশলা ও নুনযুক্ত খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। বিশেষত হটডগ, বার্গারের মতো প্রিজারভেটিভ খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ, এই সব খাবার অতিরিক্ত নুন দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। তবে, শরীরের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যেরও খেয়াল রাখতে হবে। নিজেকে সবসময়  এমন নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত রাখতে হবে, যাতে মানসিক চাপ তৈরি না হয়। দৈনন্দিন জীবনে নিজের অবকাশের সময় বের করতে হবে। তবেই সুস্থ জীবনযাপন করা যাবে।

(ছবিটি গুগল থেকে নেওয়া)

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here